ভারতে তদন্তের ফলাফল

নাচি অ্যাপারেল

এই কারখানায় লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা এবং হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলি নাৎচি  মালিক ইস্টম্যান অ্যাপারেল এবং এইচ&এম (H&M)-এর সাথে বাধ্যতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। নাৎচি ফ্যাক্টরিতে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা এবং হয়রানি, অন্যান্য ধরণের অবমাননাকর আচরণ এবং সংঘ বানানোর স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ সম্পর্কিত ভারতীয় আইন, আন্তর্জাতিক শ্রম মান এবং/অথবা বিক্রেতার আচরণবিধি (ভেন্ডর কোড অফ কন্ডাক্ট)  লঙ্ঘন করে এমন অসংখ্য রেওয়াজ খুঁজে পেয়েছিল ডবলু আর সি এবং তার পরেই এই চুক্তিগুলিতে পৌঁছানো হয়েছিল।

 

টেক্সপোর্ট ক্রিয়েশন

পোশাক শিল্পে ক্রমাগতভাবে  কম মজুরি দেওয়ায় বেশিরভাগ গার্মেন্টস শ্রমিকদের কোভিড-১৯ সংকটের প্রাক্কালে কোনো সঞ্চয় ছিল না।  যেহেতু পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলিতে বেশিরভাগ সরকার কোন বেকারত্বের সুবিধা প্রদান করে না বা খুবই সামান্য সুবিধা প্রদান করে, তাই একজন কাজের বাইরে থাকা গার্মেন্টস শ্রমিক এবং তার পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক দারিদ্র্যের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় হল  আইনত বাধ্যতামূলক বিচ্ছেদ সুবিধা যা বেশিরভাগ গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবসানের পরে প্রাপ্য।

ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়াম (ডবলু আর সি) এর গবেষণা থেকে জানা যায় যে মহামারী চলাকালীন বরখাস্ত করা অনেক গার্মেন্টস শ্রমিকদের এই প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের অল্প বা পুরোটাই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, এবং ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা যাদের পোশাক তারা সেলাই করেছিল তারা শ্রম অধিকারের দায়  এবং আইন লঙ্ঘন করে।  টেক্সপোর্ট ক্রিয়েশন হল ডবলু আর সি-এর বিবরণ ফায়ার্ড, দেন রবডঃ ফ্যাশন ব্র্যান্ড’স কমপ্লিসিটি ইন ওয়েজ থেফ্‌ট ডিউরিং কোভিড -১৯  – এ চিহ্নিত ৩১ টি রপ্তানি পোশাক কারখানার মধ্যে অন্যতম, যা শ্রমিকদের আইনত বাধ্যতামূলকভাবে বহিষ্কার ক্ষতিপূরণ যা ২০২১  সালের এপ্রিল পর্যন্ত দিতে বাধ্য এখনও পরিশোধিত করেনি। ২০২০ সালের মে মাসে, টেক্সপোর্ট ক্রিয়েশন বন্ধ হয়ে গেলে ৭৫০ জন শ্রমিককে বরখাস্ত করে। ২০২১ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত, সেইসব শ্রমিকরা বৈধভাবে পাওনা ক্ষতিপূরণ $২১৬৩৩৪ এর অপেক্ষায় ছিল।টেক্সপোর্ট ক্রিয়েশন ছিল একটি সেলাই এর সংস্থা যা ২৬/১, A২, ২৬/১, B২,  টি এম (T.M)ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট, কেনচেনাহাল্লি, আর আর নগর, মহীশূর রোড, ব্যাঙ্গালোর, ভারতে অবস্থিত। গ্যাপ (Gap) ২০২১ সালের জানুয়ারির একটি চিঠিতে ডবলু আর সি -কে বলেছিল যে প্রতিটি শ্রমিকের জন্য বিচ্ছেদ গণনা বিবৃতি (severance calculation statements ) এবং তাদের স্বাক্ষরিত নথিগুলি যাচাই করেছে যেখানে লেখা আছে যে সবাইকে বিচ্ছেদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে এবং গ্যাপ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে সমস্ত টার্মিনাল (বিচ্ছেদ)  ক্ষতিপূরণ সঠিকভাবে প্রদান করা হয়েছে। প্রমাণে  দেখায যায় যে শ্রমিকরা অন্যান্য টার্মিনাল (বিচ্ছেদ) ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল কিন্তু সেভারান্স প্রদান করা হয়নি।

 

গার্ডেন সিটি ফ্যাশনস

পোশাক শিল্পের দীর্ঘস্থায়ীভাবে কম মজুরি বেশিরভাগ গার্মেন্টস কর্মীদের কোভিড-১৯ সংকটের প্রাক্কালে কোনো সঞ্চয় করেনি। যেহেতু পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলির বেশিরভাগ সরকার অল্প বা কোন বেকারত্বের সুবিধা প্রদান করে, তাই একজন কাজের বাইরে থাকা গার্মেন্টস কর্মী এবং তার পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক দারিদ্র্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একমাত্র জিনিসটি হল আইনত বাধ্যতামূলক বিচ্ছেদ সুবিধা যা বেশিরভাগ গার্মেন্টস কর্মী অবসানের পরে প্রাপ্য।

ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়াম (ডবলু আর সি) এর গবেষণা থেকে জানা যায় যে মহামারী চলাকালীন বরখাস্ত করা অনেক গার্মেন্টস শ্রমিকদের এই প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের অল্প বা পুরোটাই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, এবং ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা যাদের পোশাক তারা সেলাই করেছিল তারা শ্রম অধিকারের দায়  এবং আইন লঙ্ঘন করে।

গার্ডেন সিটি ফ্যাশনস হল ডবলু আর সি-এর বিবরণ ফায়ার্ড, দেন রবডঃ ফ্যাশন ব্র্যান্ড’স কমপ্লিসিটি ইন ওয়েজ থেফ্‌ট ডিউরিং কোভিড -১৯  – এ চিহ্নিত ৩১ টি রপ্তানি পোশাক কারখানার মধ্যে অন্যতম, যা শ্রমিকদের আইনত বাধ্যতামূলকভাবে বহিষ্কার ক্ষতিপূরণ যা ২০২১  সালের এপ্রিল পর্যন্ত দিতে বাধ্য এখনও পরিশোধিত করেনি। ২০২০ সালের মে মাসে, গার্ডেন সিটি ফ্যাশনস বন্ধ হয়ে গেলে ৪৫০০ জন শ্রমিককে বরখাস্ত করে। ২০২১ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত, সেইসব শ্রমিকরা বৈধভাবে পাওনা ক্ষতিপূরণ $৭৭৮৮০৩ এর অপেক্ষায় ছিল।

গার্ডেন সিটি ফ্যাশনস ছিল একটি সেলাই এর সংস্থা যা #৮৪, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাবার্ব, ইয়েশবন্থপুর, বেঙ্গালোর, ভারতে অবস্থিত। দ্য গারমেন্ট এন্ড টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ইউনিওন (GATWA) ডবলু আর সি কে জানিয়েছিল যে এখানকার শ্রমিকরা সি&এ (C&A) এবং যে সি পেনী (JCPenney) এর জন্য সেলাই করতেন।  সি&এ (C&A)-এর এপ্রিল ২০২০ ডিস্ক্লোসারে জানা যায় যে গার্ডেন সিটি ফ্যাশনস ইউনিট II, III, IV, এবং V  সি&এ -এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমদানি রেকর্ডগুলিতে  এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত গেস-এর (GUESS) জন্য চালান দেখায়। গার্ডেন সিটি ফ্যাশনস এর ওয়েবসাইটে, দেখা যায় যে এর মূল অংশীদাররা হল সি&এ (C&A), গেস (GUESS), ডেবেনহাম্‌স (Debenhams), সেসিল (Cecil), নেক্সট (Next) , ফরেভার ২১ (Forever 21), এস্পিরিট (Esprit), মুফতি (Mufti), এবং ডুন্স স্টোরস (Dunnes Stores)।  

 

ড্রেস মাস্টার অ্যাপারেল প্রাইভেট লি.

ড্রেস মাস্টার অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড, ভারতের বেঙ্গালুরুতে গ্যাপ-এর ( GAP) সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করত,২০২০ সালের মে মাসে এটি বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে ১২০০ জন শ্রমিকদের কাজ চলে যায়। কিন্তু ড্রেস মাস্টার অ্যাপারেল প্রাইভেট লি. শ্রমিকদের  $৩৪৬১৩৪ বকেয়া পাওনা মেটায় না যা তাদের আইনত  প্রাপ্য ছিল। ড্রেস মাস্টার ভারতীয় কোম্পানি রেমন্ড লিমিটেডের অংশ ছিল, যা তিনটি ব্র্যান্ডের মালিক এবং পাঁচটি অন্যান্য সহায়ক সংস্থা পরিচালনা করে।কারখানায় কম অর্ডার আসার ফলে ম্যানেজমেন্ট শ্রমিকদের উৎসাহিত করছিল যাতে তারা পদত্যাগ করে যাতে কর্মসংস্থান হ্রাস পায়। সরকার-নির্দেশিত লকডাউনের কারণে, ফ্যাক্টরিটি ২০২০ সালের মার্চ এবং এপ্রিল মাসে বেশ কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ছিল, ফেস মাস্ক তৈরির সুবিধায় শুধুমাত্র অল্প সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছিল। যখন ১৭ মে কারখানাটি পুনরায় চালু হয়, তখন এটি কেবল অর্ধেক  শ্রমিককে ফিরিয়ে আনে। তারপরে, জুন মাসে, শ্রমিকদের বলা হয়েছিল যে অর্ডারের অভাবে কারখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং কারখানাটি পুনরায় চালু হলে তাদের পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে। নয় মাস পরেও যখন ড্রেস মাস্টার বন্ধ থাকে তখন যদিও এটি কর্মীদের কিছু পাওনা সুবিধা প্রদান করে (একটি বার্ষিক বোনাস এবং অর্জিত ছুটির বেতন), কিন্তু  বিচ্ছেদ (সেভারেন্স) পরিশোধ করেনি।

গ্যাপের (GAP) দাবি, ড্রেস মাস্টার শ্রমিকদের পুরো টাকা দিয়েছিল। যাইহোক, শ্রমিক প্রতিনিধিরা বারবার রিপোর্ট করতে থাকেন যে শ্রমিকরা বিচ্ছেদের এক টাকাও পায়নি এবং ডবলু আর সি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে ড্রেস মাস্টারের মালিকদের দ্বারা গ্যাপকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।

 

 অ্যাভেরি ডেনিসন

শ্রমিকরা বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (GATWU) দ্বারা প্রতিনিধিত্ব চেয়েছিল বলে তাদের বিরূদ্ধে অ্যাভেরি ডেনিসন প্রতিশোধ নিয়েছিল, ডবলু আর সি এই ঘটনার তদন্ত করছিল। তাদের বিবরণে , ডবলু আর সি দেখতে পেয়েছে যে অ্যাভেরি ডেনিসন এই প্ল্যান্টে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে:

  • ফ্যাক্টরির রিসোর্স ম্যানেজার (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপকের) দ্বারা কারখানার একটি দায়িত্বশীল ইউনিয়নের নেতাকে অনুপযুক্ত অর্থ প্রদান এবং GATWU-এর প্রতিনিধিত্ব চাওয়ার জন্য শ্রমিকদের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার জন্য সেই ইউনিয়নের নেতাদের তালিকাভুক্ত করা;·
  • ক্ষমতাসীন ইউনিয়নের সমর্থকদের শারীরিকভাবে আক্রমণ এবং GATWU সমর্থনকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ফৌজদারি বিচার, এবং আবাসন থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া; এবং
  • শ্রমিকদের অহিংস সংগঠিত কার্যকালাপের উপর ভয় দেখানোর জন্য জোরদার নজরদারি চালানো।

ডব্লিউআরসি এই রিপোর্টের ফলাফলগুলিকে অ্যাভেরি ডেনিসন, কলম্বিয়া (একজন কলেজিয়েট লাইসেন্সধারী) এবং অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাথে শেয়ার করেছে যাদের এই কারখানা সরবরাহ করে। পরবর্তীকালে, অ্যাভেরি ডেনিসন ডবলু আর সি-এর সাথে যোগাযোগ করেন এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে সম্মত হন। অ্যাভেরি ডেনিসনও GATWU এবং বর্তমান ইউনিয়ন, উভয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কমিটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং দরকষাকষি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের জন্য মজুরি এবং সুবিধার উল্লেখযোগ্য উন্নতির সাথে একটি নতুন যৌথ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

 

শাহী এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড

ডবলু আর সি-এর তদন্তে দেখা গেছে, শাহী এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের  (শাহী)  ম্যানাজমেন্ট ইউনিট ৮ ফ্যাক্টরি (বেঙ্গালুরু, ভারত) শ্রমিকদের মৌলিক শ্রম অধিকারের অনুশীলনের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর দমন ও প্রতিশোধের প্রচার চালায়। কর্ণাটক গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (KOOGU) এর সাথে শ্রমিকদের সংগঠিত এবং আরও ভাল কাজের অবস্থার জন্য আবেদন করার প্রতিক্রিয়ার ফলস্বরূপ এই প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছিল। কারখানাটি কলম্বিয়া স্পোর্টসওয়্যারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো লাগানো পোশাক এবং বেনেটন (Benetton), এইচ&এম (H&M) এবং অ্যাবারক্রম্বি&ফিচের (Abercrombie&Fitch) পোশাক তৈরি করে।

শাহী ভারতের বৃহত্তম পোশাক প্রস্তুতকারক এবং আহুজা পরিবারের মালিকানাধীন। ২০১৮ সালের গোড়ার দিকে, কোম্পানিটি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিতে নির্ধারিত বৃদ্ধি বাতিল করার জন্য কর্ণাটক রাজ্যের সরকারের কাছে সফলভাবে লবিং করেছিল। ডবলু আর সি-এর কারখানার তদন্ত, এপ্রিলের শেষের দিকে এবং ২০১৮ সালের প্রথম দিকে সংগোঠিত হয়েছিল, ৩০ জনেরও বেশি শাহীতে কর্মরত শ্রমিকের  সাক্ষাৎকারর নেওয়া হয়েছিল। ডবলু আর সি শাহীকে ভারতীয় আইন, আন্তর্জাতিক শ্রম মান, এবং বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্র্যান্ড আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করেছে। এই লঙ্ঘনের মধ্যে শারিরীক মারধর, মৃত্যুর হুমকি, লিঙ্গ, বর্ণ, এবং ধর্ম-ভিত্তিক হয়রানি, এবং গণহত্যার হুমকি অন্তর্ভুক্ত ছিল; এবং তার সাথে সাথে কারখানা থেকেও বহিষ্কার করা হয় ১৫ জন শ্রমিক কর্মীকে।

ডবলু আর সি শাহী, কলম্বিয়া স্পোর্টসওয়্যার এবং অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাথে নিজেদের তৈরি রিপোর্টের ফলাফলগুলি এবং সুপারিশগুলি ভাগ করেছে এবং বরখাস্ত নেতাদের পুনঃস্থাপন, সহিংসতার কাজে সরাসরি জড়িত পরিচালকদের বরখাস্ত করা এবং ইউনিয়নের অবিলম্বে স্বীকৃতি সহ পদক্ষেপের জন্য চাপ দিয়েছে। শাহী প্রাথমিকভাবে ইউনিট ৮ কর্মীদের পুনর্বহাল করতে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু শ্রমিকরা যাতে তাদের সংগঠনের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কারখানায় নিরাপদে ফিরে যেতে সক্ষম হয় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক পদক্ষেপ নিতে রাজি হননি। সংশোধনমূলক পদক্ষেপ তৈরি করতে শাহীর ব্যর্থতাকে প্রকাশ্যে আনার জন্য, ডবলু আর সি তাদের তদন্তকে জনসম্মুখে প্রকাশ করে, শাহী এবং ব্র্যান্ডগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট মিডিয়া কভারেজ যাতে পাওয়া যায় তাও নিশ্চিত করে, এবং তার সাথে সাথেই কলেজিয়েট লাইসেন্সধারী, কলম্বিয়া -কে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়-এর চাপ নিশ্চিত করা হয়।

ডবলু আর সি -এর প্রতিবেদন প্রকাশের চাপে পরে, শাহী ২৫ জুন শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে দেখা করে এবং একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষর করে, যার মূল উপাদানগুলি জুনের শেষে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়। যে ১৫ জন শ্রমিককে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং শাহী ইউনিট ৮ কারখানা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তারা কোনো ঘটনা বা হয়রানি ছাড়াই কারখানায় পুনরায় বহাল হয়েছিল এবং তাদের বকেয়া মজুরি পেয়েছিল। ডবলু আর সি এবং ক্রেতাদের প্রতিনিধিদের দ্বারা কারখানার ভিতরে শ্রমিকদের প্রত্যাবর্তন পরিলক্ষিত হয়। শাহীও ইউনিয়নকে স্বীকৃতি দিয়েছে, নিয়মিত আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং সহিংসতার জন্য দায়ী বেশিরভাগ ম্যানেজার এবং সুপারভাইজারদের বরখাস্ত করতে আরম্ভ করেছে।

 

গোকালদাস ইন্ডিয়া

ডবলু আর সি -এর তদন্তে দেখা গেছে যে, এই ট্র্যাজেডির সময়, কারখানাটি শ্রমিকদের যোগ্যতা এবং অনসাইট শিশু যত্ন এবং জরুরী চিকিৎসা সহায়তার জন্য সরঞ্জাম সম্পর্কিত অসংখ্য রাষ্ট্রীয় বিধি লঙ্ঘন করেছিল, কিন্তু যদি কারখানাটি সেইসব প্রয়োজনীয় বিধিগুলি মেনে চলত, তবে হয়তো শিশুটির মৃত্যু এড়ানো যেত। এই ফলাফলগুলির বিশ্লেষণের মাধ্যমে, সেইসাথে উভয়েরই, সন্তানের মা-এর ক্ষতির ব্যাপকতা এবং কারখানার যথেষ্ট আর্থিক ক্ষতি বিশ্লেষণ করেই (গোকালদাস এক্সপোর্টস-এর বেশিরভাগ মালিকানা রয়েছে- মাল্টি বিলিয়ন ডলারের প্রাইভেট ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম, ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপের), ডবলু আর সি দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করেছে যে গোকালদাস এক্সপোর্টস যেন শ্রমিক এবং তার পরিবারকে যথেষ্ট অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।

তাই আমরা আপনাদের জানাতে আনন্দিত যে, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫-এ গোকালদাস এক্সপোর্টস এবং গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (GATWU), একটি বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে আলোচনার পরে, কোম্পানিটি মৃত শিশুর মাকে তাঁর ক্ষতির কথা বিবেচনা করে অতিরিক্ত সহায়তা $১০,৫০০ (বা প্রায় নয় বছরের মজুরি) দিতে সম্মত হয়েছে। ।১৪ সেপ্টেম্বর সেই শ্রমিক এই অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ নিতে রাজী হন এবং তা গ্রহণ করেন।

 

শাহী এক্সপোর্টস

২০০৯ সালের মার্চ মাসে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির পর প্রায় এক বছর ধরে, বেঙ্গালুরুতে পোশাক উৎপাদনকারীরা বৈধ প্রয়োজনীয় মজুরি দিতে ব্যর্থ হয়। লাখ লাখ শ্রমিক তাদের ন্যায্য উপার্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রায় ৫০,০০০ শ্রমিকদের নিয়ে, শাহী এক্সপোর্টস ছিল বেঙ্গালুরুতে সবচেয়ে বড় উৎপাদক। ডবলু আর সি যখন শাহীর কাছে লঙ্ঘনের প্রমাণ পেশ করে, তখন ম্যা্নেজমেন্ট প্রকাশ্যে ন্যূনতম মজুরি আইন লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করে, এবং বলে যে ব্যাঙ্গালোরের এই শিল্পে এটি একটি সাধারণ অভ্যাস। ম্যানেজমেন্ট বিশ্বাস শিল্প বিশ্বাস করে যে এই বৃদ্ধিটি অবাঞ্ছিত ছিল অভ্যাসটিকে চালু রাখতে এবং সরকারকে ন্যূনতম মজুরি হ্রাস করার জন্য অনুরোধ করেছিল। ম্যানেজমেন্ট এই অভ্যাসটির পক্ষ নিয়েছিল কারন তাদের বিশ্বাস ছিল যে এই বৃদ্ধিটি অযৌক্তিক ছিল এবং তারা ন্যূনতম মজুরি হ্রাস করার জন্যও সরকারকে অনুরোধ করেছিল।আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে ডবলু আর সি-এর এই ব্যাপক মজুরি লঙ্ঘনগুলির প্রকাশের ফলে ১১০,০০০ -এরও বেশি শ্রমিকরা নিজেদের বকেয়া বেতন ফিরে পেয়েছেন এবং তাদের মজুরি বৃদ্ধিও হয়েছে-যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পোশাক তৈরি করে যারা সেইসব শ্রমিক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নামী পোশাকের ব্র্যান্ড এবং খুচরা বিক্রেতাদের জন্য উৎপাদনকারী শ্রমিকরাও রয়েছেন। ডবলু আর সি নিশ্চিত করেছে যে বর্তমান ন্যূনতম মজুরি এখন শহরের  সমস্ত রপ্তানিতে রত পোশাক কারখানায় দেওয়া হচ্ছে।